Search This Blog

Theme images by MichaelJay. Powered by Blogger.

Blog Archive

Tuesday, December 13, 2016

চতুর্থ দৃশ্য

চতুর্থ দৃশ্য



শচীমাতা :

নিমাই! এ ঘর ও ঘর করে কী খুঁজছিস বাবা?



নিমাই :

(আমতা আমতা করিয়া) কী যেন খুঁজছিলাম মা, খুঁজতে খুঁজতে ভুলে গেছি।



শচীমাতা :

(হাসিয়া) তুই থির হয়ে বস দেখি। আমি বউমাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি। (যাইতে যাইতে) বউমা! নিমাইকে পান দিয়ে এসো তো মা।



বিষ্ণুপ্রিয়া :

ছি ছি ছি ছি! মা কী মনে করছেন বলো তো। পড়াতে পড়াতে পাঁচ বার তো পান চাইতে বাড়িতে এলে।



নিমাই :

এবার কিন্তু পান চাইতে আসিনি । পড়াতে বসে কীসের যেন সূত্র ভুলে গেলাম–তাই একটা বই খুঁজতে এলাম॥



বিষ্ণুপ্রিয়া :

তুমি ভারী দুষ্টু! তুমি কখ্‍খনো বই খুঁজতে আসনি। আমি জানি তুমি কী খুঁজতে এসেছ।



নিমাই :

বউ খুঁজতে, – লক্ষ্মী?



বিষ্ণুপ্রিয়া :

আচ্ছা, তুমি আমায় আমার সতিনের নাম ধরে ডাক কেন বলো তো? লক্ষ্মী তো তোমার প্রথম স্ত্রীর নাম ছিল। তুমি দিদি কে খুব ভালোবাসতে, না?



নিমাই :

খুব ভালোবাসলে সে কি ছেড়ে যেতে পারত? তাই এবার বিয়ে করে তোমাকে নিয়ে আবার খুব ভালোবাসার সাধনা আরম্ভ করেছি।



বিষ্ণুপ্রিয়া :

যাও! সত্যি বলো না, কেন আমায় যখন তখন ওই বলে ডাক ?



নিমাই :

যিনি লক্ষ্মী তিনিই বিষ্ণুপ্রিয়া, যে বিষ্ণুপ্রিয়া সে-ই লক্ষ্মী। আচ্ছা, এবার থেকে তোমায় প্রিয়া বলে ডাকব, তাহলে খুশি হবে তো?



বিষ্ণুপ্রিয়া :

তোমার পায়ে পড়ি, ওতে আমার আরও লজ্জা করবে, তার চেয়ে তুমি বরং লক্ষ্মীই বোলো।



নিমাই :

আরে, আমি কি পাড়ার লোক ডেকে সভা করে, তোমায় প্রিয়া বলে ডাকব? এই আড়ালে আড়ালে –দুজনে যখন এমনি একা থাকব, তখন। আমি অনেক দিন থেকে ভাবছি তোমায় একটা কথা জিজ্ঞাসা করব প্রিয়া, তুমি সত্য করে বলবে?



বিষ্ণুপ্রিয়া :

ও কী কথা বলছ তুমি। তুমি যে স্বামী, নারায়ণ, তোমার কাছে মিথ্যা বললে যে আমার মরলেও স্থান হবে না।



নিমাই :

আমি দোজবরে বলে কি তোমার মনে কোনোরূপ দুঃখ আছে?



বিষ্ণুপ্রিয়া :

(অশ্রু ছল ছল কণ্ঠে) তোমার পায়ে পড়ি, তুমি অমন কথা বোলো না, ও-কথা শুনলেও পাপ হয়। আমি তোমার এই পা ছুঁয়ে বলছি–তোমার মুখে শোনবার আগে ও-কথা আমার স্বপ্নেও মনে হয়নি। তুমি কেন এ কথা বললে বলো! ও-কথা মনে আসবার আগে যেন আমার মরণ হয় – মরণ হয় –



নিমাই :

ওকী! এই সামান্য কথায় এমন করে কাঁদতে আছে? তুমি এত কষ্ট পাবে জানলে আমি কখনই এ-কথা বলতাম না। আমি এমনি রহস্য করে বললাম মাত্র, আর অমনি মানিনীর মানে আঘাত লাগল। আচ্ছা,আর একটি কথার উত্তর দাও দেখি। বিয়ের আগে তুমি আমায় ভালোবেসেছিলে?



বিষ্ণুপ্রিয়া :

যাও! কে তোমাকে এ কথা বললে? তুমি সকলের অন্তর্যামী কিনা।



নিমাই :

নিশ্চয়ই। আমি যখন স্বামী অর্থাৎ কিনা নারায়ণ, কাজেই অন্তর্যামীও। নইলে তোমার অন্তরের কথা কী করে জানলাম?



বিষ্ণুপ্রিয়া :

তুমি কিছু জান না। জানলে বিয়ের আগে অমন করে কাঁদতে না।



নিমাই :

ও! তোমার সঙ্গে বিয়ের আগে একবার সম্বন্ধ ভাঙে ভাঙে হয়েছিল, সেই কথা বলছ বুঝি? তাতে কিন্তু আমার কোনো দোষ ছিল না। আমাকে না জানিয়েই মা কাশী মিশ্রকে পাঠিয়ে ছিলেন সম্বন্ধ ঠিক করতে। তাই তোমাদের গণক ঠাকুরকে বলেছিলাম, আমি বিয়ের কিছু জানিনে। কিন্তু তারপর আমি তো আবার লুকিয়ে লোক পাঠিয়েছিলাম বিয়ের দিনক্ষণ ঠিক করতে।



বিষ্ণুপ্রিয়া :

সে তোমার দয়া। সবাই বলে, তুমি করুণাময়। নইলে আমার কী দশা হত তাই ভাবি।



নিমাই :

তাহলে তোমারও দশা পাবার অবস্থা হয়েছিল বলো। তাই তো বলি, রোজ রোজ গঙ্গার ঘাটে আমার মাকে তোমার এত ঘটা করে প্রণাম করার মানে কী। আর দিনে দশবার করে গঙ্গার ঘাটে আসারই বা হেতু কী?



বিষ্ণুপ্রিয়া :

তুমি পণ্ডিত মানুষ, ন্যায়শাস্ত্রবিদ, তাই ধোঁয়া দেখলেই সেখানে আগুনের সন্দেহ কর। আমার বয়ে গেছিল তোমাকে দেখতে যাবার জন্য। আমি যেতুম মাকে দেখতে।



নিমাই :

কিন্তু মা তো থাকতেন তোমার ঘাটেই, তুমি হাঁ করে আমি যে ঘাটে সাঁতার কাটতাম সেদিকে চেয়ে থাকতে কেন?


  


[দূরে কাঞ্চনার গান]


সিনান করিতে গিয়েছিনু সই সেদিন গঙ্গাতটে।


উদয় হলেন গৌরচন্দ্র অমনি হৃদয় পটে॥


নির্মল মোর মনের আকাশে


উঠিয়া সে চাঁদ মৃদু হাসে,


তারে লুকাইতে নারি, সখী ভয়ে মরি, বুঝি কলঙ্ক রটে॥


  



নিমাই :

(এক লাইন গানের পর) আমি পালালুম কিন্তু। তোমার মুখরা সখীকে আমার বড়ো ভয়। ও কোন দিন আমাকে ধরিয়ে দেবে দেখছি।


[প্রস্থান]

No comments:
Write comments

Interested for our works and services?
Get more of our update !