Search This Blog

Theme images by MichaelJay. Powered by Blogger.

Blog Archive

Tuesday, December 13, 2016

ত্রয়োদশ দৃশ্য

ত্রয়োদশ দৃশ্য


[ ভোরবেলা – কাঞ্চনা গাইতেছে বিষ্ণুপ্রিয়ার শয়নকক্ষ-দ্বারে ]


ফিরে যাও গৌরসুন্দর চঞ্চল মতি


  (তুয়া মনে কীসের পিরিতি)


এমন সোনার দেহ পরশ করিল কে


  না জানি সে কোন রসবতী॥


অলসে অরুণ-আঁখি ঘুমে প্রেমে মাখামাখি


(আজু) রজনিতে হলে কার পতি


  বদন-কমল কেন মলিন হইল হেন


ধোঁয়া দিয়ে করেছে কে তোমার আরতি॥


নদিয়া-নাগরী সনে নিশি যাপি নিরজনে


  আসিলে হে নিলাজ কেমন করে।


সুরধুনী-তীরে গিয়া মার্জনা করগে হিয়া


তবে সে আসিতে দিব ঘরে॥


  



নিমাই :

                  আমি হরি-বাসর-বাসী    অমিয় সাগরে ভাসি


কহে সখী বহু কটু ভাষ


থাকি না যথায় গিয়া হৃদে মোর বিষ্ণুপ্রিয়া


সেই মোর রাস-রানি    আমি তাঁরই দাস।


  



বিষ্ণুপ্রিয়া :

তাই তো বলি, কাঞ্চনা এত ভোরে কার সাথে কলহ করছে?



কাঞ্চনা :

যার জন্যে চুরি করি সেই বলে চোর। এক ঘণ্টা ধরে যে দোরগোড়ায় চ্যাঁচালাম, তা একবার ফিরে দেখলে না। মনে করলাম পাশ-বালিশটাকেই বুঝি পণ্ডিতমশাই মনে করে নিশ্চিন্তে জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে আছ। এখন তো একজনের কণ্ঠস্বর শুনে ঘুম ভাঙতে এতটুকু দেরি হল না। বলি সারারাত ঘুমিয়েছ না অমনি জেগেই কাটিয়েছ।



নিমাই :

ঝড় উঠেছে, দেহ-তরি নিয়ে এই বেলা সরে পড়ি।



কাঞ্চনা :

সরে পড়লে চলবে না ঠাকুর। আজ তুমি স্পষ্ট করে বলো, তোমার মনে কী আছে। সারা নদিয়া আজ তোমার প্রেমে পাগল, তোমার করুণায় নাকি ত্রিভুবন ডুবুডুবু, নদে ভেসে যায়। শুধু আমার এই সখীটিই চরায় ঠেকে থাকলেন কেন? তোমার প্রেম-সমুদ্রের এক বিন্দু বারি পেলে যে বেঁচে যায় তাকে এ বঞ্চনা কেন?



বিষ্ণুপ্রিয়া :

(কাতর স্বরে) কাঞ্চনা!



কাঞ্চনা :

তুমি থামো। পাপ হয় আমার হবে। উনি ভগবান। পৃথিবীর দুঃখীকে উদ্ধার করতে এসেছেন, শুধু তুমি ছাড়া। রাম পৃথিবী ত্রাণ করেছেন সীতাকে সঙ্গে নিয়ে – বর্জন করে নয়। শ্রীকৃষ্ণ রাধাকে নিয়ে, সত্যভামা, রুক্মিণী প্রভৃতিকে নিয়েই ভূ-ভার হরণ করেছেন। ইনি যদি নারায়ণই হন তবে লক্ষ্মীকে এত বেদনা দেন কোন অপরাধে, কোন শাস্ত্রমতে?



নিমাই :

আমি সত্যই অপরাধী, কাঞ্চনা, তাই তোমার সখীর কাছে মার্জনা ভিক্ষা করতে এসেছি।



কাঞ্চনা :

তা হলে বলো, দেহি পদ-পল্লবমুদারম।



নিমাই :

(সুরে) দেহি পদ-পল্লবমুদারম।



নিতাই :

দেখেছি যুগল মিলন দেখেছি – দেখেছি।


  


[ নিত্যানন্দের গান ও নৃত্য ]


এই যুগল-মিলন দেখব বলে ছিলাম আশায় বসে।


আমি নিত্যানন্দ হলাম পিয়ে মধুর ব্রজ-রসে।


রাই বিষ্ণুপ্রিয়া আর কানাই গউর


হেরো নদিয়ায় যুগল রূপ সুমধুর


তোরা দেখে যা দেখে যা, মধুর মধুর।


মধুর রাই আর মধুর কানাইর দেখে যা


  দেখে যা মধুর মধুর।


   [তাণ্ডব নৃত্য]


  



ঈশান :

এই হয়েছে! মাতোয়াল ঠাকুর আবার খেপেছে। ও বাব্বাঃ! ঠাকুর যে একেবারে দিগম্বর মূর্তিতে নেচে বেড়াচ্ছে গো! ও দাঠাউর! ধরো ধরো! সন্ন্যাসী ঠাউর যে ন্যাংটা হয়ে নেচে বেড়াচ্ছে গো। মুখ দিয়ে ফেনা উঠছে যে! বুড়ো লোক আমি কি সামলাতে পারি এই পাগলা হাতিকে!



নিমাই :

(হাসিয়া) একী হচ্ছে প্রভু! ছিঃ ! ছিঃ ! নাও কাপড় পরো।



নিতাই :

হ্যাঁ, হ্যাঁ, এইবার আমি যাব।



নিমাই :

আরে, যাওয়ার কথা কে বলেছে ? কাপড় পরো।



নিতাই :

আর খেতে পারব না। আমার ক্ষুধাতৃষ্ণা মিটে গেছে।



নিমাই :

আরে, আমি কী বলছি আর তুমি কী উত্তর দিচ্ছ।



নিতাই :

এই নিয়ে দশবার গেলুম, আর যেতে পারব না।



নিমাই :

আমার মাথা আর মুণ্ড! তাতে আমার কী দোষ?



নিতাই :

মা এখানে নেই। (উন্মত্ত হাসি ও নৃত্য)



শচীমাতা :

নিতাই, ঘরে এসো, সন্দেশ খাবে।



নিতাই :

?



  

বসন – বসন দে। মা ডাকলেন – শিগগির কাপড় আন।



শচীমাতা :

হল ভালো, ছিল এক পাগল, তার দোসর জুটল এসে উন্মাদ।



নিতাই :

তোমার বাবা পাগল, তোমার মা পাগল, তোমাদের গুষ্টি পাগল মা, তা আর ছেলেরা কোন ভালো হবে?


[অসমাপ্ত]

No comments:
Write comments

Interested for our works and services?
Get more of our update !