Search This Blog

Theme images by MichaelJay. Powered by Blogger.

Blog Archive

Monday, December 12, 2016

চতুর্থ খণ্ড

চতুর্থ খণ্ড



রানি :

(একটু দূরে) অনুরাধা, তোমার কবিকে দিয়ো আমার এই কণ্ঠহার!



অনুরাধা :

রানি!



রানি :

রানি নয় অনুরাধা, লছমী। তুমি আমায় লছমী বলে ডেকো। রানির কারাগারে আমার ডাক-নামের হয়েছিল মৃত্যু। তোমার বরে সে নাম আমার বেঁচে উঠুক।



অনুরাধা :

লছমী! তুমি সত্যই লছমী। রূপে লছমী, গুণে লছমী, গোলোকের অধীশ্বরী – লক্ষ্মী।



লছমী :

আর তুমি বুঝি ব্রজের দূতী?



অনুরাধা :

বেশ, তোমার দূতিয়ালিই করব। এই চাকরিই আমি মেনে নিলাম। তোমার কণ্ঠহার আমি যথাস্থানে পৌঁছে দেব, নিশ্চিন্ত থেকো।


  


(অনুরাধার গান)


ধন্য ধন্য ধন্য রমণী ধন্য জনম তোর।


সব জন কানু কানু করে ঝুরে


    সে কানু তোর ভাবে বিভোর।


[উদ্যান-অন্তরালে বিদ্যাপতি ও রাজা শিবসিংহ]


  



রাজা :

বিদ্যাপতি! বিদ্যাপতি! দেখেছ? ওদের দুইজনের মুখে গোধূলির আলো পড়ে ঠিক বিয়ের কনের মতো সুন্দর দেখাচ্ছে। বিদ্যাপতি, বিদ্যাপতি, আরে তুমি যে নির্বাক নিষ্পন্দ হয়ে গেলে!



বিদ্যাপতি :

অপরূপ পেখলুঁ বামা।



  

কনকলতা অবলম্বনে উঠল



  

হরিণীহীন হিমধামা॥


[এ কী অপরূপ রূপ-ফাঁদ!


স্বর্ণলতিকা ধরি উঠিয়াছে যেন ওই কলঙ্কহীন এ চাঁদ]


নলিন নয়ান দুটি অঞ্জনে রঞ্জিত


এ কী ভুরু-ভঙ্গিবিলাস,


চকিত চকোর জোড় বিধি যেন বাঁধিল


দিয়া কালো কাজরপাশ।


গুরু গিরিবর পয়োধর পরশিছে


গ্রীবার গজমোতি হারা,


কাম কম্বু ভরি কনক কুম্ভ পরি


ঢালে যেন সুরধুনী-ধারা।


পুণ্য প্রয়াগ-জলে যে করে যজ্ঞ শত


পায় এরে সেই বহুভাগী।


বিদ্যাপতি কহে, গোকুল-নায়ক


গোপীজন-অনুরাগী॥


  



রাজা :

সাধু! সাধু কবি! বিদ্যাপতি! এ কি তোমার গান, না তোমার আত্মার গান?

No comments:
Write comments

Interested for our works and services?
Get more of our update !