Search This Blog

Theme images by MichaelJay. Powered by Blogger.

Blog Archive

Saturday, November 26, 2016

মাধবী-প্রলাপ


আজ

লালসা-আলস-মদে বিবশা রতি



শুয়ে

অপরাজিতায় ধনি স্মরিছে পতি।



  

তার    নিধুবন-উন্মন



  

       ঠোঁটে কাঁপে চুম্বন,



  

       বুকে পীন যৌবন



  

                উঠিছে ফুঁড়ি,



মুখে

কাম-কন্ঠক ব্রণ মহুয়া-কুঁড়ি!


  



করে

বসন্ত বনভূমি সুরত কেলি,



পাশে

কাম-যাতনায় কাঁপে মালতী বেলি!



  

ঝুরে    আলু-থালু কামিনী



  

       জেগে সারা যামিনী,



  

       মল্লিকা ভামিনী



  

                অভিমানে ভার,



কলি

না ছুঁতেই ফেটে পড়ে কাঁটালি চাঁপার!


  



ছি ছি

বেহায়া কী সাঁওতালি মহুয়া ছুঁড়ি,



লাজে

আঁখি নিচু করে থাকে সোঁদাল-কুঁড়ি!



  

পাশে    লাজ-বাস বিসরি



  

        জামরুলি কিশোরী



  

        শাখা-দোলে কি করি



  

                 খায় হিন্দোল।



হল

ঘাম-ভাঙা লাজে কাম-রাঙার কপোল!


  



বাঁকা

পলাশ-মুকুলে কার আনত আঁখি?



ওগো

রাঙা-বউ বনবধূ রাগিল না কি?



  

তার আঁখে হানি কুঙ্কুম



  

    ভাঙিল কি কাঁচা ঘুম?



  

    চুমু খেয়ে বেমালুম



  

                 পালাল কি চোর?



রাগে

অনুরাগে রাঙা হল আঁখি বন-বউর!



ওগো

নার্গিসফুলি বনবালা-নয়নায়



ও কে

সুরমা মাখায় নীল ভোমরা পাখায়!



  

কালো    কোয়েলার রূপে ওকি



  

         উড়িয়া বেড়ায় সখী



  

         কামিনী-কাজল আঁখি



  

                  কেঁদে বিষাদে?



কার

শীর্ণ কপোল কাঁদে অস্ত-চাঁদে!


  



সখী

মদনের বাণ-হানা শব্দ শুনিস



ওই

বিষ-মাখা মিশকালো দোয়েলের শিস!



  

দেখ    দুই আঁখি ঝাঁপিয়া



  

       কেঁদে ওঠে পাপিয়া—



  

       ‘চোখ গেল হা প্রিয়া’



  

                চোখে খেয়ে শর।



কাঁদে

ঘুঘুর পাখায় বন বিরহ-কাতর!


  



ঝরে

ঝরঝর মরমর বিদায়-পাতা,



ওকি

বিরহিণী বনানীর ছিন্ন খাতা?



  

ওকি    বসন্তে স্মরি স্মরি



  

       সারাটি বছর ধরি



  

       শত অনুযোগ করি



  

                লিখিয়া কত



আজ

লজ্জায় ছিঁড়ে ফেলে লিপি সে যত!



আসে

ঋতুরাজ, ওড়ে পাতা জয়ধ্বজা;



হল

অশোক শিমুলে বন-পুষ্প রজা।



  

তার    পাংশু চীনাংশুক



  

       হল রাঙা কিংশুক,



  

       উৎসুক উন্মুখ



  

                যৌবন তার



যাচে

লুন্ঠন-নির্মম দস্যু তাতার!


  



ওড়ে

পিয়াল-কুসুম-ঝরা পরাগ কোমল



ওকি

বসন্ত বনভূমি-রতি-পরিমল?



  

ওকি    কপোলে কপোল ঘষা



  

       ওড়ে চন্দন খসা?



  

       বনানী কি করে গোঁসা



  

                ছোঁড়ে ফুল-ধুল?



ওকি

এলায়েছে এলো-খোঁপা সোঁদা-মাখা চুল?


  



নাচে

দুলে দুলে তরুতলে ছায়া-শবরী,



দোলে

নিতম্ব-তটে লটপট কবরী!



  

দেয়    করতালি তালীবন,



  

       গাহে বায়ু শন শন,



  

       বনবধূ উচাটন



  

                মদন-পীড়ায়,



তার

কামনার হরষণে ডালিম ডাঁশায়!



নভ

অলিন্দে বালেন্দু উদিল কি সই?



ও যে

পলাশ-মুকুল, নব শশিকলা কই?



  

ও যে    চির বালা ত্রয়োদশী



  

        বিবস্ত্রা উর্বশী,



  

        নখ-ক্ষত ওই শশী



  

                নভ-উরসে।



ওকি

তারকা না চুমো-চিন আছে মুরছে?


  



দূরে

সাদা মেঘ ভেসে যায়— শ্বেত সারসী,



ওকি

পরিদের তরি অপ্সরি-আরশি?



  

ওকি    পাইয়া পীড়ন-জ্বালা



  

        তপ্ত উরসে বালা



  

        শ্বেতচন্দন লালা



  

                করিছে লেপন?



ওকি

পবন খসায় কার নীবি-বন্ধন?


  



হেথা

পুষ্পধনু লেখে লিপি রতিরে



হল

লেখনি তাহার লিচু-মুকুল চিরে!



  

লেখে    চম্পা কলির পাতে,



  

        ভোমরা আখর তাতে,



  

        দখিনা হাওয়ার হাতে



  

                দিল সে লেখা।


No comments:
Write comments

Interested for our works and services?
Get more of our update !