Search This Blog

Theme images by MichaelJay. Powered by Blogger.

Blog Archive

Sunday, November 13, 2016

জাগৃহি

[তোটক ছন্দ]

  



‘হর

হর হর শংকর হর হর ব্যোম’ –



একী

ঘন রণ-রোল ছায়া চরাচর ব্যোম!



হানে

ক্ষিপ্ত মহেশ্বর রুদ্র পিনাক,



ঘন

প্রণব-নিনাদ হাঁকে ভৈরব-হাঁক



ধু ধু

দাউ দাউ জ্বলে কোটি নর-মেধ-যাগ,



হানে

কাল-বিষ বিশ্বে রে মহাকাল-নাগ!



আজ

ধূর্জটি ব্যোমকেশ নৃত্য-পাগল,



ওই

ভাঙল আগল ওরে ভাঙল আগল!



বোলে

অম্বুদ-ডম্বুর কম্বু বিষাণ,



নাচে

থই-তাতা থই-তাতা পাগলা ঈশান!



দোলে

হিন্দোলে ভীম-তালে সৃষ্টি ধাতার,



বুকে

বিশ্বপাতার বহে রক্ত-পাথার!



ঘোর

নির্ঘোষে ‘মার মার’ দৈত্য, অসুর,



প্রেত,

রক্ত-পিশাচ, রণ-দুর্মদ সুর।



করে

ক্রন্দসী-ক্রন্দন অম্বর রোধ –



ত্রাহি

ত্রাহি মহেশ হে সম্বরো ক্রোধ!



সুত

মৃত্যু-কাতর, হাহা অট্টহাসি



হাসে

চণ্ডী চামুণ্ডা মা সর্বনাশী।



কাল-

বৈশাখী ঝঞ্ঝারে সঙ্গে করি –



রণ-

উন্মাদিনী নাচে রঙ্গে মরি!



উর-

হার দোলে নরমুণ্ড-মালা,



করে

খড়্গ ভয়াল, আঁখে বহ্নি-জ্বালা!



নিয়া

রক্তপানের কী অগস্ত্য-তৃষা



নাচে

ছিন্ন সে মস্তা মা, নাইকো দিশা!



‘দে রে

রক্ত দে রক্ত দে’ রণে ক্রন্দন,



বুঝি

থেমে যায় সৃষ্টির হৃৎ-স্পন্দন!



জ্বলে

বৈশ্বানরের ধু ধু লক্ষ শিখা,



আজ

বিষ্ণু-ভালে লাল রক্ত-টিকা!



শুধু

অগ্নি-শিখা ধু ধু অগ্নি-শিখা,



শোভে

করুণার ভালে লাল রক্ত-টিকা!



রণ-

শ্রান্ত অসুর-সুর-যোদ্ধৃ-সেনা,



শুধু

রক্ত-পাথার, শুধু রক্ত-ফেনা!



একী

বিশ্ব-বিধ্বংস নৃশংস খেলা,



কিছু

নাই কিছু নাই প্রেত-পিশাচে মেলা।



আজ

ঘরে ঘরে জ্বলে ধু ধু শ্মশান মশান –



হোক

রোষ অবসান, ত্রাহি ত্রাহি ভগবান!



আজি

বন্ধ সবার পূতি-গন্ধে নিশাস,



বিষে

বিশ্ব-নিসাড়, বহে জোর নাভিশ্বাস!



দেহো

ক্ষান্ত রণে, ফেলো রঙ্গিণী বেশ,



খোলো

রক্তাম্বর মাতা সম্বরো কেশ!



এ তো

নয় মাতা রক্তোন্মত্তা ভীমা!



আজ

জাগৃহি মা, আজ জাগৃহি মা।



তব

চরণাবলুণ্ঠিত মহিষ-অসুর,



হল

ধ্বংস অসুর, লীন শক্তি পশুর।



তবে

সম্বরো রণ, হোক ক্ষান্ত রোদন–



হোক

সত্য-বোধন আজ মুক্তি-বোধন!



এসো

শুদ্ধা মাতা এই কাল-শ্মশানে



আজ

প্রলয়-শেষে এই রণাবসানে!



জাগো

জাগো মানব-মাতা দেবী নারী!



আনো

হৈম ঝারি, আনো শান্তি-বারি!



এসো

কৈলাস হতে মা গো মানস-সরে,



নীল

উৎপল-দলে রাঙা আঁচল-ভরে।



এসো

কন্যা উমা, এসো গৌরী রূপে,–



বাজো

শঙ্খ শুভ, জ্বালো গন্ধ ধূপে!



আজ

মুক্ত-বেণি মেয়ে একাকী চলে,



ওই

শেফালি-তলে হেরো শেফালি-তলে।



ওড়ে

এলোমেলো অঞ্চল আশ্বিন-বায়,



হানে

চঞ্চল নীল চাওয়া আকাশের গায়!



ঘোষে

হিমালয় তার মহা হর্ষ-বাণী, –



এল

হৈমবতী, এল গৌরী রানি।



বাজো

মঙ্গল শাঁখ, হোক শুভ-আরতি,



এল

লক্ষ্মী-কমলা, এল বাণী-ভারতী।



এল

সুন্দর সৈনিক সুর কার্তিক,



এল

সিদ্ধি-দাতা, হেরো হাসে চারিদিক!



ভরা

ফুল-খুকি ফুল-হাসি শিউলির তল,



আজ

চোখে আসে জল, শুধু চোখে আসে জল!



নিয়া

মাতৃ-হিয়া নিয়া কল্যাণী-রূপ



এল

শক্তি স্বাহা, বাজো শাঁখ, জ্বালো ধূপ!



ভাঁজো

মোহিনী সানাই, বাজো আগমনি-সুর,



বড়ো

কেঁদে ওঠে আজ হিয়া মাতৃ-বিধুর।



ওঠে

কণ্ঠ ছাপি বাণী সত্য পরম –



বন্-

দে মাতরম্। বন্‌দে মাতরম্!

No comments:
Write comments

Interested for our works and services?
Get more of our update !