Search This Blog

Theme images by MichaelJay. Powered by Blogger.

Blog Archive

Sunday, November 13, 2016

ফাতেহা-ই-দোয়াজ্-দহম্

[তিরোভাব]

  


এ কী বিস্ময়! আজরাইলেরওআজরাইল : যমদূত। জলে ভর-ভর চোখ!


বে-দরদদরদ : নির্মম। দিল্ কাঁপে থর-থর যেন জ্বর-জ্বর শোক।


জান-মরা তার পাষাণ-পাঞ্জা বিলকুল ঢিলা আজ,


কব্‌জা নিসাড়, কলিজা সুরাখসুরাখ : ঝাঁঝরা। , খাকখাক : মাটি। চুমে নীলা তাজতাজ : আজরাইলের মাথার তাক নীলবর্ণ।


জিব্‌রাইলেরজিব্‌রাইল : প্রধান ফেরেশ্‌তা ও স্বর্গীয় বার্তাসহ। আতশিআতশি : অগ্নিময়। পাখা সে ভেঙে যেন খান খান,


দুনিয়ার দেনা মিটে যায় আজ তবু জান আন্-চান!


মিকাইলমিকাইল : একজন ফেরেশ্‌তার নাম। অবিরল


লোনা    দরিয়ার সবই জল


ঢালে    কুল মুল্লুকেমুল্লুক : সর্বদেশে। , ভীম বাতে খায় অবিরল ঝাউ দোল।


এ কি    দ্বাদশীর চাঁদ আজ সেই? সেই রবিয়ল আউওলআউওল : হিজরি সালের তৃতীয় মাস। ?


  



  


ঈশানে কাঁপিছে কৃষ্ণ নিশান, ইস্‌রাফিলেরইস্‌রাফিল : প্রলয়-বিষাণধারী ফেরেশ্‌তা। ও প্রলয়-বিষাণ আজ


কাতরায় শুধু! গুমরিয়া কাঁদে কলিজা-পিষানো বাজ!


রসুলেররসুল : প্রেরিত পুরুষ। দ্বারে দাঁড়ায়ে কেন রে আজাজিলআজাজিল : শয়তানের নাম। শয়তান?


তারও বুক বেয়ে আঁশু ঝরে, ভাসে মদিনার ময়দান!


জমিন্-আশমান জোড়া শির পাঁও তুলি তাজি বোর্‌রাক্বোর্‌রাক্: স্বর্গীয় ঘোড়া। ,


চিখ্ মেরে কাঁদে ‘আরশে’আরশ : খোদার সিংহাসন। র পানে চেয়ে, মারে জোর হাঁক!


হুরপরি শোকে হায়


জল-    ছলছল চোখে চায়।


আজ    জাহান্নমের বহ্নি-সিন্ধু নিবে গেছে ক্ষরি জল,


যত    ফিরদৌসেরফিরদৌস : বেহেশত, স্বর্গ বিশেষের নাম। নার্গিস-লালানার্গিস-লালা : ফুলের নাম। ফেলে আঁশু-পরিমল।


  



  


মৃত্তিকা-মাতা কেঁদে মাটি হল বুকে চেপে মরা লাশ,


বেটার জানাজা
জানাজা : কবরে মৃতদেহ স্থাপনের আগে পঠিত নামাজ।
কাঁদে যেন – তাই বহে ঘন নাভি-শ্বাস!


পাতাল-গহ্বরে কাঁদে জিন, পুন মলো কি রে সোলেমানসোলেমান : বিশ্বখ্যাত সুবিচারী সম্রাট ও নবি। ?


বাচ্চারে মৃগী দুধ নাহি দেয়, বিহগীরা ভোলে গান!


ফুল পাতা যত খসে পড়ে, বহে উত্তর-চিরা বায়ু,


ধরণির আজ শেষ যেন আয়ু, ছিঁড়ে গেছে শিরা স্নায়ু!


মক্কা ও মদিনায়


আজ    শোকের অবধি নাই!


যেন    রোজ-হাশরেররোজ-হাশর : শেষ বিচার। ময়দান, সব উন্মাদসম ছুটে।


কাঁপে    ঘন ঘন কাবাকাবা : মক্কা মসজিদে রক্ষিত বিশাল কালো পাথর। , গেল গেল বুঝি সৃষ্টির দম টুটে।



  


নকিবের তূরী ফুৎকারি আজ বারোয়াঁর সুরে কাঁদে,


কার তরবারি খান খান করে চোট মারে দূরে চাঁদে?


আবুবকরের
আবুবকর : হজরতের প্রিয়তম শিষ্য, প্রথম খলিফা।
দর দর আঁশু দরিয়ার পারা ঝরে,


মাতা আয়েষার
আয়েষা : হজরতের পত্নী, আবুবকরের বিদূষী কন্যা।
কাঁদনে মুরছে আশমানে তারা ডরে!


শোকে উন্মাদ ঘুরায় উমর
উমর : হজরতের প্রিয় শিষ্য, দ্বিতীয় খলিফা।
ঘূর্ণির বেগে ছোরা,


বলে ‘আল্লার আজ ছাল তুলে নেব মেরে তেগ্তেগ্ : ছোরা। , দেগে কোঁড়াকোঁড়া : চাবুক, বেত। ।’


হাঁকে ঘন ঘন বীর –


‘হবে,   জুদাজুদা : আলাদা, পৃথক। তার তনতন : দেহ। শির,


আজ যে বলিবে নাই বেঁচে হজরত – যে নেবে রে তাঁরে গোরে।’


আজ দারাজ দস্তেদস্তে : বিশাল হাতে। তেজ হাতিয়ার বোঁও বোঁও করে ঘোরে!


  



  


গুম্বজে কে রে গুমরিয়া কাঁদে মসজিদে মস্‌জিদে?


মুয়াজ্জিনেরমুয়াজ্জিন : নামাজের সময়-ঘোষণাকারী। হোশ্ নাই, নাই জোশ চিতে, শোষ হৃদে!


বেলালেরওবেলালের : ইসলামের প্রথম মুয়াজ্জিন। আজ কণ্ঠে আজান ভেঙে যায় কেঁপে কেঁপে,


নাড়ি-ছেঁড়া এ কী জানাজার ডাক হেঁকে চলে ব্যেপে ব্যেপে!


উস্‌মানের আর হুঁশ নাই কেঁদে কেঁদে ফেনা উঠে মুখে,


আলি হাইদরহাইদর : হজরতের ভ্রাতা ও জামাতা, চতুর্থ খলিফা। ঘায়েল আজি রে বেদনার চোটে ধুঁকে!


আজ    ভোঁতা সে দুধারি ধার


ওই    আলির জুলফিকারজুলফিকার : হজরত আলির তলোয়ার। !


আহা    রসুল-দুলালি আদরিণী মেয়ে মা ফাতেমাফাতেমা : হজরতের কন্যা ও হাসান-হুসেনের জননী। ওই কাঁদে,


‘কোথা    বাবাজান।’ বলি মাথা কুটে কুটে এলোকেশ নাহি বাঁধে!


  



  


হাসান-হুসেন তড়পায় যেন জবে-করা কবুতর,


‘নানাজান কই!’ বলি খুঁজে ফেরে কভু বার কভু ঘর।


নিবে গেছে আজ দিনের দীপালি, খসেছে চন্দ্র-তারা,


আঁধিয়ারা হয়ে গেছে দশ দিশি, ঝরে মুখে খুন-ঝারা!


সাগর-সলিল ফোঁপায়ে উঠে সে আকাশ ডুবাতে চায়,


শুধু         লোনা জল তার আঁশু ছাড়া কিছু রাখিবে না দুনিয়ায়।


খোদ    খোদা সে নির্বিকার,


আজ    টুটেছে আসনও তাঁর!


আজ        সখা মহ্‍বুবেমহ্‍বুব : প্রেমাস্পদ, প্রিয় বন্ধু। বুকে পেতে দুখে কেন যেন কাঁটা বেঁধে,


তারে        ছিনিবে কেমনে যার তরে মরে নিখিল সৃষ্টি কেঁদে!



  


বেহেশ্‌ত     সব আরাস্তাআরাস্তা : সজ্জিত। আজ, সেথা মহা ধুম-ধাম,


গাহে        হুরপরি যত, ‘সাল্লালাহু আলায়হি সাল্‌লাম।’


কাতারে কাতারে করজোড়ে সবে দাঁড়ায়ে গাহিছে জয়, –


ধরিতে না পেরে ধরা-মা-র চোখে দর দর ধারা বয়।


এসেছে আমিনাআমিনা : হজরতের জননী। আবদুল্লাআবদুল্লা : হজরতের পিতা। কি, এসেছে খদিজাখদিজা : হজরতের প্রথম পত্নী। সতী?


আজ        জননীর মুখে হারামণি-পাওয়া-হাসা হাসে জগপতি!


‘খোদা,    একী তব অবিচার!’


বলে    কাঁদে সুত ধরা-মা-র।


আজ        অমরার আলো আরও ঝলমল, সেথা ফোটে আরও হাসি,


শুধু         মাটির মায়ের দীপ নিভে গেল, নেমে এল অমা-রাশি


  


                  *    *    *    *    *


  


আজ        স্বরগের হাসি ধরার অশ্রু ছাপায়ে অবিশ্রাম


ওঠে        একী ঘন রোল – ‘সাল্লাল্লাহু আলায়হি সাল্‌লাম।’

No comments:
Write comments

Interested for our works and services?
Get more of our update !