Search This Blog

Theme images by MichaelJay. Powered by Blogger.

Blog Archive

Monday, November 14, 2016

শহিদি-ইদ

(১)


  


শহিদের ইদ এসেছে আজ


শিরোপরি খুন-লোহিত তাজতাজ : মুকুট।,


 আল্লার রাহে চাহে সে ভিখ;



জিয়ারারজিয়ারার : প্রাণ। চেয়ে পিয়ারা যে


আল্লার রাহে তাহারে দে,


 চাহি না ফাঁকির মণিমানিক।


  


(২)


  


চাহি নাকো গাভি দুম্বা উট


কতটুকু দান? ও দান ঝুট।


 চাই কোরবানি, চাই না দান।


রাখিতে ইজ্জত ইসলামের


শির চাই তোর, তোর ছেলের,


 দেবে কি? কে আছ মুসলমান?


  


(৩)


  


ওরে ফাঁকিবাজ, ফেরেব-বাজ,


আপনারে আর দিসনে লাজ, –


 গোরু ঘুষ দিয়ে চাস সওয়াবসওয়াব : আলিঙ্গন। ?


যদিই রে তুই গোরুর সাথ


পার হয়ে যাস পুলসেরাতপুলসেরাত : দোজখের উপর একটি পুল, যা চুলের চেয়েও ক্ষুদ্র ও তরবারির চেয়ে ধারালো। মুসলমানদের বিশ্বাস, ধার্মিক ব্যক্তিরা এই পুল আতিক্রম করে বেহেশতে বা স্বর্গে প্রবেশ করেন। ,


 কী দিবি মোহাম্মদে (দঃ)দঃ) : দরুদ, একটি সম্মানসূচক শব্দ। জওয়াব!


  


(৪)


  


শুধাবেন যবে – ওরে কাফের,


কী করেছ তুমি ইসলামের?


 ইসলামে দিয়ে জাহান্নমজাহান্নম : নরক।


আপনি এসেছ বেহেশ্‌তবেহেশ্‌ত : স্বর্গ। পর –


পুণ্য-পিশাচ! স্বার্থপর!


 দেখাসনে মুখ, লাগে শরম।


  


(৫)


  


গোরুরে করিলে সেরাতসেরাত : পুলসেরাত, একই অর্থ। পার,


সন্তানে দিলে নরক-নারনরক-নার : অগ্নিময়।!


 মায়া-দোষে ছেলে গেল দোজখদোজখ : নরক।


কোরবানি দিলি গোরু-ছাগল,


তাদেরই জীবন হল সফল


 পেয়েছে তাহারা বেহেশ্‌ত-লোক!


(৬)


  


শুধু আপনারে বাঁচায় যে,


মুসলিম নহে, ভণ্ড সে!


  ইসলাম বলে – বাঁচো সবাই!


দাও কোরবানি জান ও মাল,


বেহেশ্‌ত তোমার করো হালালহালাল : বিধিসম্মত ; ধর্মীয় অর্থে জবাই, গলার নলি কেটে মুরগি বধ।


  স্বার্থপরের বেহেশ্‌ত নাই।


  


(৭)


  


ইসলামে তুমি দিয়ে কবর


মুসলিম বলে কর ফখরফখর : গর্ব, অহংকার।!


  মোনাফেকমোনাফেক : ভদ্র। তুমি সেরা বে-দীন!


ইসলামে যারা করে জবেহ্জবেহ্ : জবাই।,


তুমি তাহাদেরই হও তাঁবে।


  তুমি জুতো-বওয়া তারই অধীন।


  


(৮)


  


নামাজ-রোজার শুধু ভড়ং,


ইয়া উয়া পরে সেজেছ সং,


  ত্যাগ নাই তোর এক ছিদাম!


কাঁড়ি কাঁড়ি টাকা করো জড়ো,


ত্যাগের বেলাতে জড়সড়ো!


  তোর নামাজের কী আছে দাম?


  


(৯)


  


খেয়ে খেয়ে গোশ্‌তগোশ্‌ত : মাংস। রুটি তো খুব


হয়েছ খোদার খাসি বেকুব,


  নিজেদের দাও কোরবানি।


বেঁচে যাবে তুমি, বাঁচিবে দ্বীনদ্বীন : ইসলাম ধর্ম। ,


দাস ইসলাম হবে স্বাধীন,


  গাহিছে কামাল এই গানই!


  


(১০)


  


বাঁচায়ে আপনা ছেলে-মেয়ে


জান্নাতজান্নাত : স্বর্গের উদ্যান। পানে আছ চেয়ে


  ভাবিছ সেরাত হবেই পার।


কেন না, দিয়েছ সাত জনের


তরে এক গোরু! আর কী ঢের!


  সাতটি টাকায় গোনাহ্গোনাহ্ : অপরাধ, পাপ। কাবার!


(১১)


  


জান না কি তুমি, রে বে-ইমান


আল্লা সর্বশক্তিমান


  দেখিছেন তোর সব কিছু?


জাব্বা-জোব্বা দিয়ে ধোঁকা


দিবি আল্লারে, ওরে বোকা!


  কেয়ামতেকেয়ামত : শেষ বিচার, মহাপ্রলয়। হবে মাথা নিচু!


  


(১২)


  


ডুবে ইসলাম, আসে আঁধার!


ইব্রাহিমেরইব্রাহিম : বিশ্বনবির পূর্বপুরষ। মতো আবার


  কোরবানি দাও প্রিয় বিভব!


‘জবীহুল্লাহ্’জবীহুল্লাহ্ : আল্লার নামে উৎসর্গ করা ব্যাক্তি, হজরত ইসলামের উপনাম। ছেলেরা হোক,


যাক সব কিছু – সত্য রোক!


  মা হাজেরাহাজেরা : ইব্রাহিমের পত্নী ও ইসমাইলের জননী। হোক মায়েরা সব।


  


(১৩)


  


খাবেখাবে : স্বপ্নে। দেখেছিলেন ইব্রাহিম –


‘দাও কোরবানি মহামহিম!’


  তোরা যে দেখিস দিবালোকে


কী যে দুর্গতি ইসলামের!


পরীক্ষা নেন খোদা তোদের


  হবিবেরহবিব : হজরতের বন্ধু। সাথে বাজি রেখে!


  


(১৪)


  


যত দিন তোরা নিজেরা মেষ,


ভীরু দুর্বল, অধীন দেশ, –


  আল্লার রাহে ততটা দিন


দিয়ো নাকো পশু কোরবানি,


বিফল হবে রে সবখানি!


  (তুই) পশু চেয়ে যে রে অধম হীন!


  


(১৫)


  


মনের পশুরে কর জবাই,


পশুরাও বাঁচে, বাঁচে সবাই।


  কশাই-এর আবার কোরবানি! –


আমাদের নয়, তাদের ইদ,


বীর-সুত যারা হল শহিদ,


  অমর যাদের বীরবাণী।


  


(১৬)


  


পশু কোরবানি দিস তখন


আজাদ মুক্ত হবি যখন


  জুলুম-মুক্ত হবে রে দীন। –


কোরবানির আজ এই যে খুন


শিখা হয়ে যেন জ্বালে আগুন,


  জালিমের যেন রাখে না চিন॥


  


  আমিন রাব্বিল আলমিনআলমিন : ঈশ্বর মঙ্গল করুন। !!


  আমিন রাব্বিল আ-লমিন!!

No comments:
Write comments

Interested for our works and services?
Get more of our update !